নিজস্ব প্রতিনিধি, মেলাঘর: রাস্তায় বেরিয়ে তৃষ্ণা মেটাতে নিশ্চিন্তে কিনে নিলেন বোতলবন্দি পানীয় জল! ভেবেছিলেন বিশুদ্ধ জল পান করে শরীর সুস্থ রাখবেন। কিন্তু সেই বোতলের ভেতরেই যদি শেওলা কিংবা অজ্ঞাত ভাসমান পদার্থ আপনাকে হাতছানি দেয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই— রাজ্যে আদৌ কি বোতলবন্দি জল উৎপাদনকারী সংস্থা গুলোর উপর কোনো নজরদারি আছে? বৃহস্পতিবার মেলাঘরের লাল মিয়া চৌমুহনী এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনা যেন সেই প্রশ্নকেই আরও জোরালো করল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উদয়পুরের ‘কঙ্কনা’ নামধারী একটি জল কোম্পানির সরবরাহকৃত বোতলবন্দি জলে হঠাৎ করেই চোখে পড়ে সন্দেহজনক ভাসমান বস্তু। বোতলের ভেতরে নোংরা ও শেওলা জাতীয় পদার্থ ভাসতে দেখেই দোকানমালিক ও স্থানীয়দের নজরে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। মুহূর্তের মধ্যে বিশুদ্ধতার দাবি করা জলের বোতল যেন পরিণত হয় প্রশাসনিক উদাসীনতার এক জীবন্ত প্রতীকে।
ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা জল সরবরাহকারী বিক্রেতাদের আটকে রেখে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন খাদ্য দপ্তর ও ফুড সেফটি অফিসারকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা। তাঁরাও প্রাথমিক তদন্তে জলের ভেতরে সন্দেহজনক নোংরা পদার্থের উপস্থিতি স্বীকার করে নেন। এরপরই জলটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বোতলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে (Lab) পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
তদন্তে নেমে সবচেয়ে যে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি সামনে এসেছে, তা হলো প্রাথমিক পর্যায়ে বিক্রেতাদের কাছে জল বিক্রির বা সরবরাহের কোনো বৈধ নথিপত্রই ছিল না। আর এখানেই উঠছে মূল প্রশ্ন—
-
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কীভাবে এই জল প্রকাশ্য বাজারে পৌঁছালো?
-
কার ছত্রছায়ায় রাজ্যের বুকে গজিয়ে উঠছে এমন বেনামি জল কোম্পানি?
-
প্রশাসন কি শুধু অভিযোগ জমা পড়ার পরই নড়েচড়ে বসবে?
-
সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা বন্ধে আগাম নজরদারির কোনো ব্যবস্থা কি থাকবে না?
জনগণের বক্তব্য: বোতলের গায়ে চকচকে লেবেলে ‘প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার’ লেখা থাকলেই যে জল নিরাপদ হয়ে যায় না, তা মেলাঘরের ঘটনা আবারও হাতেনাতে প্রমাণ করে দিল।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে বোতলের সিল যতটা শক্ত, ঠিক ততটাই আলগা ও ঠুনকো রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও নজরদারির ব্যবস্থাটাই। এখন দেখার, ল্যাব রিপোর্টের পর এই ‘কঙ্কনা’ জল কোম্পানির বিরুদ্ধে খাদ্য দপ্তর ও প্রশাসন কী দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।