আগরতলার জগন্নাথ বাড়ি সংলগ্ন ৩ দোকানে দুঃসাহসিক চুরি! এক চোরকে হাতেনাতে ধরল জনতা, পুলিশের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা: রাজধানীর বুকে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে চোর চক্রের দাপট। এবার শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা হিসেবে পরিচিত জগন্নাথ বাড়ির সামনের তিনটি দোকানে একযোগে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো। গতকাল গভীর রাতে চোরের দল পরপর তিনটি দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং নগদ টাকা সহ বেশ কিছু মূল্যবান সামগ্রী লুট করে। তবে শেষরক্ষা হয়নি; পালানোর সময় এক চোরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের টহলদারি ও ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
জনতার জালে ১ চোর, উদ্ধার চুরি যাওয়া সামগ্রী
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল গভীর রাতে জগন্নাথ বাড়ির সামনের দোকানগুলোতে চুরির উদ্দেশ্যে হানা দেয় একদল দুষ্কৃতী। একে একে তিনটি দোকানের তালা ভেঙে তারা ভেতরে লুটপাট চালায়। গভীর রাতে সন্দেহজনক শব্দ পেয়ে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও নৈশপ্রহরী এগিয়ে এলে চোরের দল পালানোর চেষ্টা করে।
এলাকাবাসী তৎপরতার সাথে ধাওয়া করে চোর চক্রের একজন সদস্যকে ধরে ফেলতে সক্ষম হন। বাকিরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। ধৃত চোরের কাছ থেকে চুরি যাওয়া বেশ কিছু সামগ্রী ও চোরাই মাল উদ্ধার করেছেন এলাকাবাসী। পরে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়।
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে ফুঁসছেন ব্যবসায়ীরা
শহরের কেন্দ্রস্থলে এবং জগন্নাথ বাড়ির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সামনে কীভাবে পুলিশি নজরদারি এড়িয়ে এক রাতে তিনটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটলো, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এলাকায় পুলিশের নৈশকালীন টহলদারি বা পেট্রোলিং আগের চেয়ে অনেকটাই ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে, যার ফায়দা তুলছে দুষ্কৃতীরা।
ক্ষুব্ধ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন— “আমরা প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে ব্যবসা করছি। জগন্নাথ বাড়ির মতো জায়গায় যদি এক রাতে তিন-তিনটি দোকানে চুরি হয়ে যায়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? সাধারণ মানুষ যদি চোর ধরে পুলিশকে দিতে হয়, তবে পুলিশের কাজটা কী? আমরা অবিলম্বে এই এলাকায় পুলিশের নিয়মিত নৈশ টহলদারি বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।”
ব্যবসায়ীরা সাফ জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করা না হলে এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা না হলে তারা আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। পুলিশ ধৃত যুবককে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং বাকি চোরদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।