আগরতলা আদালত চত্বরে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! ছাই একাধিক দোকান ও ক্লাব ঘর, ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব বিরোধীরা
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগর্তলা: মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়ালো আগরতলা আদালত (কোর্ট) চত্বরে। আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে আদালত চত্বরে থাকা একাধিক দোকান ও একটি ক্লাব ঘর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ডের টাইমিং বা সময় নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত আগরতলা বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে ‘সংবিধান বাঁচাও মঞ্চ’। এই ঐতিহাসিক জয়ের ঠিক পরপরই আদালত চত্বরে এমন বিধ্বংসী আগুন লাগার ঘটনায় গভীর রহস্য ও নাশকতার গন্ধ দেখছেন অনেকে। সাধারণ মানুষের মনেও এই ঘটনা নিয়ে তীব্র সংশয় ও নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ সাহা
ঘটনার খবর পেয়েই সকালেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ সাহা সহ দলের এক প্রতিনিধি দল। তিনি পুড়ে যাওয়া দোকানপাট ও ক্লাব ঘরগুলো ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন।
আশীষ সাহা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন— “বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে বিরোধীদের জোট ‘সংবিধান বাঁচাও মঞ্চ’ বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পরই এই ঘটনা কোনো সাধারণ অগ্নিকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না। এর পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা আক্রোশ থাকতে পারে। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করছি।”
তদন্তের দাবিতে সাধারণ মানুষ ও আইনজীবী মহল
আদালতের মতো একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মধ্যরাতে কীভাবে এই ধরনের ভয়াবহ আগুন লাগলো, তা নিয়ে সাধারণ নাগরিক ও আইনজীবীদের একাংশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এটি শর্ট সার্কিট নাকি এর পেছনে কোনো দুষ্কৃতী দলের হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্তভার নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে ব্যবসায়ীদের লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। ঘটনার জেরে আদালত চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।