Home » Blog » অভাবনীয় উদ্যোগে স্মৃতির মিলনমেলা: শান্তিরবাজার স্কুলে

অভাবনীয় উদ্যোগে স্মৃতির মিলনমেলা: শান্তিরবাজার স্কুলে

১৯ বছর পর এক ছাদের নিচে প্রিয় শিক্ষক ও বন্ধুরা! | শান্তিরবাজার স্কুল ২০০৭ ব্যাচের আবেগঘন পুনর্মিলনী

by Planet Tripura
0 comments 7 views

অভাবনীয় উদ্যোগে স্মৃতির আবেগঘন মিলনমেলা: এক ছাদের নিচে শান্তিরবাজার স্কুলের ২০০৭ ব্যাচের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিরবাজার, ১৪ জুন: ব্যস্ত জীবনের শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও স্কুলজীবনের স্মৃতি কখনও হারিয়ে যায় না। সময়ের প্রবাহে মানুষ জীবনের নানা পথে এগিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের সেই সোনালি দিন, বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত এবং শিক্ষকদের স্নেহ-শাসনের স্মৃতি আজও হৃদয়ের গভীরে অমলিন। সেই অমূল্য স্মৃতিকে আবারও জীবন্ত করে তুলতে শান্তিরবাজার দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ২০০৭ সালের মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় “স্মৃতির আঙিনায় – ২০০৭ ব্যাচ” শীর্ষক এক আবেগঘন পুনর্মিলনী ও মিলনমেলা।

দুই দশক পর এক ছাদের নিচে সোনালি দিনগুলির কোলাজ:

রবিবার অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক (১৯ বছর) পর এক ছাদের নিচে মিলিত হন প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী ও তাঁদের প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বহুদিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়ায় আবেগ, আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে গোটা অনুষ্ঠানস্থল।

  • কেউ স্মরণ করেন শ্রেণিকক্ষের মজার ঘটনা।

  • কেউ মেতে ওঠেন বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার স্মৃতিতে।

  • আবার কেউ ফিরে যান শিক্ষকদের স্নেহমাখা শাসনের দিনগুলোতে।

মুহূর্তের জন্য যেন সবাই ফিরে গিয়েছিলেন তাঁদের ছাত্রজীবনের সেই সোনালি সময়ে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকারাও তাঁদের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের বর্তমান সাফল্য, কর্মজীবন এবং সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে জেনে গর্ব প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন—

“বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আজ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করছেন, যা একজন শিক্ষকের কাছে অত্যন্ত আনন্দ ও পরম গর্বের বিষয়।”

মিলনমেলাকে কেবল আড্ডার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, একে আরও অর্থবহ করে তুলতে আয়োজকদের উদ্যোগে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলে মিলে এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

পাশাপাশি অনুষ্ঠান সূচিতে ছিল:

  1. স্মৃতিচারণ পর্ব: পুরনো দিনের গল্প ও আড্ডা।

  2. শিক্ষক সম্মাননা: প্রিয় গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন।

  3. সাংস্কৃতিক পরিবেশনা: প্রাক্তনীদের কণ্ঠে গান, কবিতা ও পারফরম্যান্স।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল পুরনো বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করা, শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা নিবেদন করা এবং আগামী দিনে সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে একযোগে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলা।

বিশেষভাবে এই মহতী উদ্যোগের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও বিশিষ্ট সমাজসেবী রামপ্রসাদ শীল। তাঁর পাশাপাশি ২০০৭ ব্যাচের অন্যান্য প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

দীর্ঘদিন পর পুরনো বন্ধু ও শিক্ষকদের সঙ্গে কাটানো এই মূল্যবান মুহূর্ত অংশগ্রহণকারীদের কাছে হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি। ২০০৭ সালের মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ শুধু স্মৃতিচারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধাবোধ, ঐক্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

You may also like

Leave a Comment