আইজিএম ও জিবিপি হাসপাতালে মৃত্যুর ঘটনায় মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি প্রদেশ কংগ্রেসের
আগরতলা, ১ জুন: রাজ্যের দুই প্রধান সরকারি হাসপাতাল—আইজিএম ও জিবিপি হাসপাতালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটি মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে দলটি।
প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদের অভিযোগ, রাজ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তাঁদের দাবি, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে আইজিএম হাসপাতাল ও জিবিপি হাসপাতালে দুটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা ও পরিষেবার ঘাটতির দিকটি সামনে এনেছে।
কংগ্রেসের অভিযোগ অনুযায়ী, আইজিএম হাসপাতালে এক গর্ভবতী মহিলা ও তাঁর গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা না পাওয়ার কারণে। অন্যদিকে, গত ৩১ মে জিবিপি হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক গুরুতর অসুস্থ রোগী শৌচালয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় নজরদারির বাইরে ছিলেন। পরে তাঁকে শৌচালয়ের মেঝেতে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
প্রদেশ কংগ্রেসের বক্তব্য, এই ঘটনাগুলিকে বিচ্ছিন্ন বা স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না। দলের মতে, স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনার ফলেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে।
দলটির পক্ষ থেকে মানবাধিকার কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, উভয় ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়ন, দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
এই দাবিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা প্রবীর চক্রবর্তী, তন্ময় রায়, শান্তি রঞ্জন দেবনাথ, নিরঞ্জন দাস এবং শ্যামল পাল।
তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।