Home » Blog » নীতি আয়োগ রিপোর্টে ত্রিপুরার শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকট

নীতি আয়োগ রিপোর্টে ত্রিপুরার শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সংকট

বিদ্যাজ্যোতি ফি প্রত্যাহার ও টেট নিয়োগের দাবিতে কংগ্রেস

by Planet Tripura
0 comments 9 views

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে ত্রিপুরা সরকারের বিরুদ্ধে সরব প্রদেশ কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেস

আগরতলা: নীতি আয়োগের ২০২৬ সালের রিপোর্টে ত্রিপুরার শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে বলে দাবি করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেস। মঙ্গলবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা, বিদ্যাজ্যোতি স্কুলে ফি আদায়, টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগে বিলম্ব এবং সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলিতে প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল বিভ্রাটের বিষয় তুলে ধরে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের সমালোচনা করেন দলের নেতারা।

আগরতলা, ১ জুন: শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেস। রবিবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে নীতি আয়োগের ২০২৬ সালের রিপোর্ট, বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পে ফি আদায়, শিক্ষার অধিকার আইন বাস্তবায়ন এবং সর্বভারতীয় বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল বিভ্রাটের বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনে কংগ্রেসের মুখপাত্র পার্থ আচার্য বলেন, নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে ত্রিপুরার শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে স্কুলছুটের হার বাড়ছে, গুণগত শিক্ষার অভাব রয়েছে এবং অধিকাংশ বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ডিজিটাল ও স্মার্ট ক্লাসের পরিকাঠামো নেই। শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিন ধরেই প্রকট হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে।

বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারি ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ফি আদায় করা হচ্ছে, যা শিক্ষা অধিকার আইন-২০০৯-এর পরিপন্থী। অবিলম্বে বিদ্যাজ্যোতি সহ সমস্ত সরকারি ও গ্রান্ট-ইন-এইড স্কুলে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

পার্থ আচার্যের মতে, সরকার একদিকে শিক্ষা-হাব গঠনের কথা বলছে, অন্যদিকে স্কুল বন্ধ করে শিক্ষাকে ধীরে ধীরে বেসরকারিকরণের পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষা সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে, যুব কংগ্রেস সভাপতি নীল কমল সাহা রাজ্যের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও চাকরির সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, নীতি আয়োগের ২০২৬ সালের রিপোর্টেও ত্রিপুরার কর্মসংস্থানের দুর্বল চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে দেশের মোট অংশগ্রহণের তুলনায় ত্রিপুরার অবদান ০.১ শতাংশেরও কম বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নীল কমল সাহার অভিযোগ, শিল্প ও কলকারখানার অভাবে রাজ্যের যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি। বিভিন্ন সরকার শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, গত সাত থেকে আট বছরে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক অবসরে গেলেও সেই শূন্যপদ পূরণ করা হয়নি। বরং বহু পদ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। টেট উত্তীর্ণ হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি।

যুব কংগ্রেসের দাবি, ২০২৪ সালের টেট-১ পরীক্ষায় ৩৬৮ জন এবং টেট-২ পরীক্ষায় ১,৪৮৮ জন যোগ্যতা অর্জন করলেও তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। সরকার শিক্ষক নিয়োগকে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বলে দাবি করলেও বাস্তবে প্রায় দুই হাজার যোগ্য প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

সাংবাদিক সম্মেলন থেকে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়।

 

You may also like

Leave a Comment