মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, কৃষক-শ্রমিক সংকট ও অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে সরব কংগ্রেস নেতারা
আগরতলা, ৩০ মে | নিজস্ব প্রতিনিধি:
কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ১২ বছরের শাসনকালকে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করে শনিবার সদর জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে বড়জলা ও জিবি বাজার এলাকায় দুটি স্ট্রিট কর্নার সভার আয়োজন করা হয়। সভা থেকে মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, কৃষক-শ্রমিকদের সমস্যা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংকটসহ একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সদর জেলা কংগ্রেস সভাপতি তন্ময় রায়, প্রদেশ ওবিসি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন দেবনাথ, মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী সর্বানি ঘোষ চক্রবর্তী, কংগ্রেস নেতা সুশান্ত চক্রবর্তী, শ্যামল পাল, যুব কংগ্রেস সভাপতি নীলকমল সাহা, অমরনাথ চক্রবর্তীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রান্নার গ্যাসের বাড়তি খরচ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশেষভাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যুব কংগ্রেস সভাপতি নীলকমল সাহা বলেন, মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। পেট্রোল, ডিজেল, সিএনজি ও পিএনজির দাম বৃদ্ধি পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি বাজারদরে পড়ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি, ফলে দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত যুবক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
নীলকমল সাহা দাবি করেন, বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে বৃহৎ কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলির স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষক, শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় স্বাধীন অবস্থানের পরিবর্তে বিদেশি শক্তির প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সভায় কংগ্রেস নেতারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিকল্প নীতির প্রয়োজন রয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে এসব বিষয় তুলে ধরতে আগামী দিনেও ধারাবাহিক গণসংযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়।
সভা শেষে নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের দাবি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।