মুখ্যমন্ত্রী ও বিদায়ী সভাপতির আশীর্বাদ নিয়ে চেয়ারে বসেন নবনিযুক্ত প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেবরায়
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ২৯ মে : ত্রিপুরায় ভারতীয় জনতা পার্টিকে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েই শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির প্রদেশ সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন মাতাবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক অভিষেক দেবরায়।রাজধানীর প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, বিদায়ী সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য এবং ত্রিপুরা বিজেপির প্রভারি রাজদ্বীপ রায়-এর উপস্থিতিতে তিনি সাংগঠনিক দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নবনিযুক্ত প্রদেশ সভাপতি বলেন, দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিজেপির ভাবধারা ও মূল আদর্শকে সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। আগামী দিনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, বুথস্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত করা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।
যুব নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক দেবরায় বলেন, সমবয়সী তরুণ কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে যেমন কাজ করবেন, তেমনই প্রবীণ কর্মীদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। জনগণের কল্যাণমূলক কাজ ও সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখাকেই তিনি অগ্রাধিকার দেবেন বলে উল্লেখ করেন।
প্রদেশ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণকে তিনি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না বলেও জানান। তাঁর বক্তব্য, আমি এখনও একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দলের জন্য কাজ করি। ভবিষ্যতেও সেইভাবেই কাজ করে যাব। তবে কোনও চ্যালেঞ্জ এলে তা শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে।
পাশাপাশি দলের সকল স্তরের নেতৃত্ব ও কর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর অভিষেক দেবরায় হচ্ছেন দলের চতুর্থ প্রদেশ সভাপতি। ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রদেশ সভাপতি তথা বর্তমান সাংসদ বিপ্লব দেব-এর নেতৃত্বে রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার গঠিত হয়।
পরবর্তীতে বিপ্লব দেবের স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রদেশ সভাপতির দায়িত্ব সামলান বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। এরপর সেই দায়িত্ব আসে রাজীব ভট্টাচার্যের হাতে। আর এবার তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে সংগঠনের শীর্ষপদে বসলেন অভিষেক দেবরায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির তরুণ মুখ হিসেবে অভিষেক দেবরায়কে সামনে এনে আগামী ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিল গেরুয়া শিবির।
সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং যুব নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তার মাধ্যমে বিজেপি আগামী নির্বাচনে নতুন উদ্যমে মাঠে নামতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে।