Home » Blog » আইজিএমে গর্ভবতীর মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

আইজিএমে গর্ভবতীর মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

মা ও অনাগত শিশুর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা আইজিএম হাসপাতালে

by Planet Tripura
0 comments 4 views

গর্ভবতী মহিলার মৃত্যুতে উত্তেজনা আইজিএম হাসপাতালে! ফের প্রশ্নের মুখে চিকিৎসা ব্যবস্থা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ২৯ মে : আগরতলার আইজিএম হাসপাতাল-এ এক গর্ভবতী মহিলার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মৃত গৃহবধূর নাম বিভা দেবনাথ (৩৪)। তাঁর স্বামী পঙ্কজ দেবনাথের বাড়ি আমতলী বৈষ্ণবটিলা এলাকায়।পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের গাফিলতি, সিনিয়র চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণেই একসাথে মা ও অনাগত শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ প্রসব বেদনা নিয়ে বিভা দেবনাথকে আইজিএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই সময় চিকিৎসকরা পরিবারকে জানান, নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করা হবে। পরিবারও চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে সম্মতি দেয়। কিন্তু অভিযোগ, এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও রোগীর অবস্থার সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি। মৃতার পরিবারের সদস্যদের দাবি, হাসপাতালে কোনও সিনিয়র চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। ঈদের ছুটির কারণে অধিকাংশ অভিজ্ঞ চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে। পরিবারের ভাষ্য, পুরো পরিস্থিতি সামলাচ্ছিলেন জুনিয়র ডাক্তার ও ইন্টার্নরা।

বারবার চিকিৎসকদের কাছে রোগীর শারীরিক অবস্থার কথা জানানো হলেও প্রতিবারই বলা হয়, নরমাল হবে। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই বাড়তে থেকেছে উৎকণ্ঠা। একদিকে প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন বিভা দেবনাথ, অন্যদিকে পরিবারের লোকজন হাসপাতালের করিডরে অসহায়ের মতো অপেক্ষা করছিলেন। অভিযোগ, সিজারিয়ান ডেলিভারির প্রয়োজন ছিল কিনা, রোগীর শারীরিক ঝুঁকি কতটা বেড়েছিল, এসব বিষয়ে পরিবারকে স্পষ্টভাবে কিছুই জানানো হয়নি।

অবশেষে শুক্রবার ভোর প্রায় ৬টা নাগাদ চিকিৎসকরা পরিবারকে জানান, বিভা দেবনাথ আর বেঁচে নেই। একইসঙ্গে অনাগত শিশুকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতাল চত্বরে। ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়রা চিকিৎসা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে আসে পশ্চিম মহিলা থানা-র পুলিশ।

পরিবারের অভিযোগ, একজন সুস্থ স্বাভাবিক গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম। চিকিৎসকদের অবহেলায় মা ও সন্তান দু’জনকেই হারাতে হলো। সারাদিন হাসপাতালে কী চিকিৎসা চলল ? কেন সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো না ? কেন কোনও সিনিয়র ডাক্তার ছিলেন না ? ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান নিয়ে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক সংকট, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যর্থতা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে মাতৃসদনের মতো স্পর্শকাতর বিভাগে যদি সিনিয়র চিকিৎসকদের উপস্থিতি না থাকে, তবে রোগীদের নিরাপত্তা কোথায়, এই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। মৃতার পরিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।

পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে তারা। একটি পরিবারের স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেল। হাসপাতালের বেডে নিথর পড়ে রইলেন এক মা, যে হয়তো কয়েক ঘণ্টা আগেও সন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। আর সেই ছবিই আজ নতুন করে নাড়িয়ে দিচ্ছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রকে।

You may also like

Leave a Comment