ত্রিপুরাজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে উদযাপিত পবিত্র ঈদ-উল-আযহা
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ মে :
ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা রাজ্যের পাশাপাশি রাজধানী আগরতলাতেও উদযাপিত হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আযহা।
শনিবার ভোর থেকেই বিভিন্ন মসজিদে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে ছোট থেকে বড় সকলেই ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে সমবেত হন। রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গেদু মিয়া মসজিদে সকালেই অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত। সেখানে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন।
নামাজ শেষে একে অপরকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের এক অনন্য চিত্র ফুটে ওঠে।
এদিন গেদু মিয়া মসজিদের ইমাম মৌলানা আব্দুর রহমান ঈদের নামাজ পরিচালনা করেন। নামাজ শেষে তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কুরবানির ঈদের তাৎপর্য ও ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হজরত ইব্রাহিম তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইলকে কুরবানি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। আল্লাহর প্রতি তাঁর সেই আনুগত্য, ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের মহান দৃষ্টান্তের স্মরণেই মুসলিম সম্প্রদায় প্রতিবছর ঈদ-উল-আযহা পালন করে থাকে।
ইমাম আব্দুর রহমান বলেন, কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগ, মানবতা, সহমর্মিতা এবং আল্লাহর নির্দেশের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে ঈদ-উল-ফিতর আসে এক মাসব্যাপী রমজানের রোজা পালনের পর, আর ঈদ-উল-আযহা মূলত ত্যাগ ও কুরবানির শিক্ষা বহন করে।
তিনি জানান, এই দুই ঈদই মানবতার কল্যাণ, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা বহন করে। ঈদের নামাজ মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক ভালোবাসার প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিন তিনি রাজ্য ও দেশের সকল মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পাশাপাশি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকুক। হিংসা, বিদ্বেষ ও অশান্তি দূর হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক।
শেষে তিনি রাজ্য ও বহিরাজ্যের সমস্ত মুসলিম ভাই-বোনদের পবিত্র ঈদ-উল-আযহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।