Home » Blog » বিলোনীয়ায় চুরি কাণ্ডে গ্রেপ্তার ২, চক্রের খোঁজে পুলিশ

বিলোনীয়ায় চুরি কাণ্ডে গ্রেপ্তার ২, চক্রের খোঁজে পুলিশ

বিলোনীয়া মহকুমা জুড়ে চুরি, গরু পাচার ও নির্মাণ সামগ্রী চুরি

by Planet Tripura
0 comments 4 views

বিলোনীয়ায় চুরি কাণ্ডে গ্রেপ্তার ২, বড় চক্রের খোঁজে পুলিশের তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা,
দীর্ঘদিন ধরে বিলোনীয়া মহকুমা জুড়ে বেড়ে চলা চুরি, গরু পাচার ও নির্মাণ সামগ্রী চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল। অবশেষে বুধবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে চুরি কাণ্ডে জড়িত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে বিলোনীয়া থানার পুলিশ। ঘটনায় আরও বড় চক্র জড়িত থাকার আশঙ্কায় ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার বিলোনীয়া থানার ওসি সঞ্জিত সেন সাংবাদিকদের জানান, বুধবার রাতে নিয়মিত টহলদারির সময় বিলোনীয়া ৮০ ফুট রাস্তা এলাকায় একটি অটোকে সন্দেহজনকভাবে চলাচল করতে দেখে পুলিশ। পরে অটোটিতে তল্লাশি চালিয়ে দুই বান্ডিল রড উদ্ধার করা হয়। অটো চালক ও তার সঙ্গে থাকা এক যাত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হলে তদন্তে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া রডগুলি বিলোনীয়া থানা এলাকার ওয়াটার ট্যাঙ্ক নির্মাণকারী সংস্থা ‘ইকো প্রটেকশান গ্রুপ’-এর কাজের সাইট থেকে চুরি করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে সংস্থার পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ মামলা রুজু করে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বিলোনীয়া মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় চুরি, গরু পাচার, দোকান ও বাড়িঘরে চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সংঘবদ্ধ চোরচক্র সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরিয়ে এসে বিভিন্ন এলাকায় চুরি সংঘটিত করে পুনরায় পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও অতীতে সামনে এসেছে।

চুরি ও অপরাধ দমনে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি বিরোধী দল সিপিআইএম বিলোনীয়ার মহকুমা শাসকের নিকট ডেপুটেশন দেয়। দলের পক্ষ থেকে মহকুমা জুড়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তুলে পুলিশ প্রশাসনকে আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি ও রাতের টহল জোরদারের দাবিও তোলা হয়।

স্থানীয় মহলের মতে, জনঅসন্তোষ ও প্রশাসনিক চাপের জেরে পুলিশ এখন আরও সক্রিয় হয়েছে। বর্তমানে রাতের টহলদারি বৃদ্ধি, সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি এবং গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চুরি চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের নাম জানার চেষ্টা চলছে। শুধু রড চুরি নয়, সাম্প্রতিক অন্যান্য চুরির ঘটনার সঙ্গেও তাদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে একাধিক এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই আরও বড় চক্রকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে পুলিশের দাবি।

স্থানীয়দের বক্তব্য, শুধুমাত্র ছোটখাটো চোরদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, বরং সীমান্তঘেঁষা এলাকায় সক্রিয় মূল পাচারকারী ও সংঘবদ্ধ চক্রকে আইনের আওতায় আনতে পারলেই অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

You may also like

Leave a Comment