Home » Blog » ‘জুম্বি ড্রাগস’-এর আতঙ্ক! মোহনপুরে

‘জুম্বি ড্রাগস’-এর আতঙ্ক! মোহনপুরে

মোহনপুরে নেশাগ্রস্ত যুবকের অস্বাভাবিক আচরণ

by Planet Tripura
0 comments 76 views
‘জুম্বি ড্রাগস’-এর আতঙ্ক! মোহনপুরে অস্বাভাবিক আচরণে চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা : মোহনপুরের তুলাবাগান চৌমুহনী এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক যুবকের অস্বাভাবিক আচরণকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অপরিচিত ওই যুবককে মূল সড়কের পাশে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় টলতে টলতে হাঁটতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের দাবি, কখনও তাকে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে, আবার কখনও ইটের গুঁড়ো ও মাটি মুখে দিতেও দেখা গেছে। ঘটনাটি ঘিরে মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তবে যুবকের এই অবস্থার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো কোনও সরকারি বা চিকিৎসাগত নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। স্থানীয়দের একাংশ অনুমান করছেন, এটি তথাকথিত ‘জুম্বি ড্রাগস’ বা কোনও শক্তিশালী মাদক সেবনের প্রভাব হতে পারে। যদিও প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়া কোনও নির্দিষ্ট মাদককে দায়ী করা যাচ্ছে না।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে মাদকাসক্তি এবং যুবসমাজের মধ্যে নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মানুষের অস্বাভাবিক আচরণের নানা ঘটনা সামনে আসছে। কোথাও রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়া, কোথাও দীর্ঘ সময় ঝুঁকে থাকা, আবার কোথাও অসংলগ্ন আচরণের অভিযোগ উঠছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তথাকথিত ‘জুম্বি ড্রাগস’ নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত ‘জুম্বি ড্রাগস’ শব্দটি কোনও বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাগত পরিভাষা নয়। সাধারণত শক্তিশালী বা মিশ্র মাদকের প্রভাবে হওয়া অস্বাভাবিক আচরণ বোঝাতেই এই শব্দ ব্যবহার করা হয়। শুধুমাত্র আচরণ দেখে কোনও ব্যক্তির শরীরে কী ধরনের মাদক রয়েছে তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য চিকিৎসা পরীক্ষা ও তদন্ত প্রয়োজন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজ্যে বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজলভ্য হয়ে পড়ায় বহু যুবক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অভিযোগ উঠছে, ছোটখাটো বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে অভিযান চললেও বড় চক্র বা মূল সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কঠোর ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও এই অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সচেতন মহলের একাংশের মতে, শুধুমাত্র ধরপাকড় নয়, মাদক প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সীমান্ত ও সরবরাহ চক্র নিয়ন্ত্রণ, পুনর্বাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের মতে, মাদক সমস্যাকে শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে নয়, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকট হিসেবেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

মোহনপুরের এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে— রাজ্যের যুবসমাজকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে বর্তমান ব্যবস্থা কতটা কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

You may also like

Leave a Comment