Home » Blog » ত্রিপুরার সরকারি কলেজে বাতিল গ্রীষ্মকালীন ছুটি

ত্রিপুরার সরকারি কলেজে বাতিল গ্রীষ্মকালীন ছুটি

গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করে সমস্ত সরকারি কলেজ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত

by Planet Tripura
0 comments 104 views

গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল, খোলা থাকবে সমস্ত সরকারি মহাবিদ্যালয়

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা : রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল ত্রিপুরা সরকার। নির্ধারিত ২৬ দিনের গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করে রাজ্যের সমস্ত সরকারি কলেজ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। এই সিদ্ধান্ত শুধু সাধারণ ডিগ্রি কলেজ নয়, প্রযুক্তিগত ও পেশাদার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।

শুক্রবার উচ্চশিক্ষা অধিকর্তা অনিমেষ দেববর্মা জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২৬ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা গ্রীষ্মকালীন ছুটি এবার আর কার্যকর হবে না। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই সময় কলেজগুলিতে চলবে ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া, ইভেন সেমিস্টারের পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দাবি, জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) বাস্তবায়নের ফলে সেমিস্টারভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘ ছুটির সুযোগ কমে এসেছে।

তাই শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ। তবে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষাঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কলেজ পড়ুয়াদের একাংশের মতে, ভর্তি প্রক্রিয়া ও পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে শেষ করার জন্য কলেজ খোলা রাখার যুক্তি থাকলেও টানা শিক্ষাবর্ষ ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিশ্রামের সুযোগ না পাওয়া তাদের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে চাপ তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকা থেকে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে দুপুরের দাবদাহ, পরিবহণ সমস্যা ও দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে অবস্থান অতিরিক্ত ভোগান্তির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে কিছু শিক্ষার্থীর বক্তব্য, নতুন শিক্ষাবর্ষ ও পরীক্ষার সূচি যাতে পিছিয়ে না যায়, সে জন্য সীমিত সময়ের জন্য হলেও এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে।

তাদের মতে, দীর্ঘ ছুটির কারণে প্রায়ই সেমিস্টার ও ফল প্রকাশে বিলম্ব দেখা যায়। শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একাংশের মত, ছুটি বাতিল হওয়ায় ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ও পারিবারিক সময় ব্যাহত হবে। অনেকের প্রশ্ন, অর্জিত ছুটি (Earned Leave) দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই ছুটি ভোগের সুযোগ কতটা থাকবে ?

পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো আর্থিক প্রণোদনা বা অতিরিক্ত ভাতা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে।যদিও সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত বেতন বা বিশেষ ভাতার কোনো উল্লেখ নেই। সেখানে শুধু দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য সমপরিমাণ ২৬ দিনের অর্জিত ছুটি প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

ফলে আপাতত অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধার সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। শিক্ষা মহলের একাংশ মনে করছে, ভর্তি প্রক্রিয়া, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কাজ একই সময়ে সম্পন্ন করতে কলেজ খোলা রাখা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে এর সঙ্গে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য, গরম মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, ক্লাস ও প্রশাসনিক কাজের ভারসাম্য বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়েই নেওয়া হলেও, বাস্তব প্রয়োগে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মীদের অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত এর সাফল্য নির্ধারণ করবে।

You may also like

Leave a Comment