“চিতাবাঘের আতঙ্ক” প্রশমিত; পরিবেশকর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে রক্ষা পেল রাজ্যের প্রাণী—মেছো বিড়াল
হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুর এলাকায় একটি চিতাবাঘ দেখা যাওয়ার গুজবে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে পরিবেশকর্মী এবং বনদপ্তরের সময়োপযোগী ও দ্রুত হস্তক্ষেপে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের প্রাণী—’মেছো বিড়াল’—নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুর ব্লকের অন্তর্গত উত্তর চাঁদচক গ্রামের শীতলা মন্দিরের কাছে। রাতের আঁধারে একটি অসুস্থ মেছো বিড়াল স্থানীয় বাসিন্দা তপন বারের বাড়িতে ঢুকে আশ্রয় নিয়েছিল। শনিবার সকালে বাড়ির ভেতরে শব্দ ও নড়াচড়া টের পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয় যে, কোনো বন্য প্রাণী ঘরে ঢুকে পড়েছে। প্রাণীটির এক ঝলক দেখেই তারা সেটিকে ভুলবশত চিতাবাঘ বলে মনে করে।
মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং চারদিকে রব ওঠে—”চিতাবাঘ ঢুকেছে!” গ্রামবাসীরা দলে দলে ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক হয়ে ওঠে যে, প্রাণীটিকে মেরে ফেলার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছিল।
ঠিক এই মুহূর্তে স্থানীয় বাসিন্দা রামেণ আদক ‘হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ’-এর উদয়নারায়ণপুর শাখার সমন্বয়ক সুমন চক্রবর্তীকে বিষয়টি জানান। বনদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে চক্রবর্তী অবিলম্বে ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
পরিবেশকর্মী রাকেশ মাখাল এবং অন্যান্য সদস্যদের সহায়তায় বনদপ্তর সফলভাবে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে। এরপর গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে আশ্বস্ত করা হয় যে, প্রাণীটি কোনো চিতাবাঘ নয়; বরং এটি একটি নিরীহ ও বিপন্ন প্রজাতির ‘মেছো বিড়াল’—এমন একটি প্রাণী যা সাপ, ব্যাঙ ও ইঁদুর জাতীয় প্রাণী শিকার করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্ধারের পর অসুস্থ প্রাণীটিকে চিকিৎসার জন্য গড়চুমুক মিনি চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে।
পরিবেশকর্মী এবং বনদপ্তরের দ্রুত ও নিষ্ঠাপূর্ণ প্রচেষ্টার সুবাদে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের প্রাণী—মেছো বিড়াল—আরও একবার রক্ষা পেল। এই ঘটনাটি এই অঞ্চলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির যে অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন রয়েছে, তা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।