Home » Blog » পুলিশের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে মতাইবাসী

পুলিশের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে মতাইবাসী

by Planet Tripura
0 comments 44 views

মতাইয়ে জমি মাফিয়ার তাণ্ডব, প্রশাসন কি নীরব দর্শক, না নীরব সহযোগী ? ক্ষোভ জনমনে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৯ মে : দক্ষিণ মতাই আজ এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে, এই রাজ্যে কি সত্যিই আইনের শাসন আছে, নাকি শক্তির দাপটই শেষ কথা ? একদিকে সাধারণ কৃষকের ঘাম ঝরানো জমি, অন্যদিকে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির দাদাগিরি এই লড়াইয়ে বারবার কেন পরাজিত হচ্ছে আইন ?

শুখলাল মিয়া ওরফে মোহাম্মদ আলমগীর এই নামটি এখন মতাই অঞ্চলে আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠছে। অভিযোগ, ঋষ্যমুখ ব্লকের দক্ষিণ মতাই গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে মুসলিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা শুখলাল মিয়া। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নাকি অর্থ ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জোতের জমির উপর দিয়ে জোরপূর্বক তৈরি করছিলেন নিজ বাড়ির রাস্তা।

এই বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ করলেন জমির মালিক কান্তি পাল ও আশিষ পাল। নিজের জমি ফিরে পাওয়ার জন্য প্রতিবাদ করায় অভিযুক্ত শুকলাল মারধর করে জমির মালিকে । বাধা দিতে আসলে, অপর জমির মালিক স্বপন বাবুর ছেলে সৌরভকেও আক্রমণ করে অভিযুক্ত শুখলাল ওরফে মোহাম্মদ আলমগীর।

উল্লেখ্য, রাস্তাটি দক্ষিণ মতাই পঞ্চায়েতের অধীনে হলেও, অঘোষিতভাবে কব্জা করে নিয়েছে শুখলাল। ফলে রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে টাকার জোরে নেতাদের পকেটে রেখে,কোন প্রকার লিখিত কাগজে অবগত করার প্রয়োজন বোধ করেনি শুখলাল।

প্রসঙ্গক্রমে, এই শুখলাল মিয়া ওরফে মোহাম্মদ আলমগীর বহু অবৈধ এবং অসামাজিক কাজের সাথে সরাসরি লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ। একসময়ের লালটুপি পড়া শুকলাল এখন গেরুয়া নামবলি গায়ে জড়িয়ে নিজেকে বিশালবড় রামভক্ত হিসেবে জাহির করেন। বর্তমানে রাতের আঁধারে দেদার চালিয়ে যাচ্ছেন ইন্দো -বাংলা আন্তর্জাতিক সীমান্তে মানবপাচার, বাইক পাচার, নেশা সামগ্রী পাচারের ব্যবসা নাকি শুকলালের নিত্যদিনের রুটিন।

গুণধর শুকলালবাবুর এ ধরনের দেশদ্রোহী কার্যকলাপের জন্যই গত দুই বছর আগে জাল পেতে গ্রেফতার করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল NIA তথা National Investigation Agency, যার ফলে জেলে থেকে দিন গুনতে হয়েছিল শুখলালকে। তবে সংশোধনাগারে থেকেও বিন্দুমাত্র সংশোধন হয়নি শুকলাল। অর্থাৎ অভ্যাস বদলায়নি শুকলালের। আগের মতোই সীমান্ত এলাকায় চালিয়ে যাচ্ছে পাচার বাণিজ্যের নৌকা। শুখলালের হাতে আক্রান্ত আহত জমির মালিকরা ঘটনার বিবরণ জানিয়ে বিলোনীয়ায় থানায় মামলা দায়ের করলেও শীতঘুমে আচ্ছন্ন পুলিশ।

এক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেছে কৃষি জমির মালিকরা। তাই প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে শুখলালের কবল থেকে কৃষকরা ওনাদের জমি উদ্ধার করতে পারবেন কিনা এবং পুলিশ আদৌ অভিযুক্ত শুকলালকে আটক করবেন কিনা, নাকি জামাই আদরে রাখবেন এই প্রশ্নই জনমনে। আরো প্রশ্ন হল কোন সাহসে, কোন আইনের বলে শুখলাল এই দাদাগিরি চালিয়ে যাচ্ছে ?

নাকি তিনি ধরেই নিয়েছেন, আইন তার কিছুই করতে পারবে না ?যখন জমির মালিকরা নিজেদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় প্রতিবাদ করেছেন, তখন তাদের উপর নেমে এসেছে শারীরিক আক্রমণ। এ যেন এক প্রকার ‘মগের মুল্লুক’, যেখানে শক্তিশালীর ইচ্ছাই আইন ! আরও ভয়াবহ অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকাকে ব্যবহার করে মানবপাচার, নেশা ও বাইক পাচারের মতো দেশবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত এই শুখলাল।

যদি এই অভিযোগের একাংশও সত্য হয়, তাহলে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়, প্রশাসন এতদিন কী করছিল ? সবচেয়ে উদ্বেগজনক হল পুলিশের ভূমিকা। অভিযোগ দায়ের হয়েছে, আক্রান্তরা ন্যায়বিচার চাইছেন, কিন্তু দৃশ্যত কোনও তৎপরতা নেই। এই নীরবতা কি কেবল গাফিলতি, নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও বড় কোনও সমীকরণ ?

আইন রক্ষাকারী বাহিনী যদি নীরব থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে ? এখন সময় এসেছে সরাসরি কথা বলার। জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে কোনও রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যেন আইনের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।প্রশাসনকে প্রমাণ করতে হবে, তারা কারও পকেটের নয়, তারা সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ।

কিন্তু শুধু প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না।সমাজকেও জেগে উঠতে হবে। গণপ্রতিরোধই হতে পারে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় শক্তি। নীরবতা মানে সম্মতি আর সেই সম্মতি যত বাড়বে, ততই শক্তিশালী হবে এই দখলদারির রাজনীতি। আজ মতাই, কাল অন্য কোথাও এই আগুন ছড়াতে সময় লাগে না।

তাই প্রশ্নটা শুধু এক গ্রামের নয়, পুরো সমাজের। মানুষ কি চুপ করে দেখবে, নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে একসাথে দাঁড়াবে ?

You may also like

Leave a Comment