Home » Blog » রবীন্দ্রজয়ন্তীতে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব প্রদেশ কংগ্রেস

রবীন্দ্রজয়ন্তীতে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব প্রদেশ কংগ্রেস

by Planet Tripura
0 comments 53 views

রবীন্দ্রজয়ন্তীতে মানবতা ও সম্প্রীতির বার্তা, বিজেপির রাজনীতির সমালোচনায় সরব প্রদেশ কংগ্রেস

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৯ মে : শনিবার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস-এর উদ্যোগে এক স্মরণসভা ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা, মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী, যুব কংগ্রেস নেতা নীল কমল সাহা এবং মহিলা কংগ্রেস নেত্রী সর্বানী ঘোষ চক্রবর্তী সহ দলের শাখা সংগঠনের কর্মী সমর্থকরা।

সভায় কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয় এবং তাঁর মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার ওপর বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্য নয়, বিশ্বমানবতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। বর্তমান সময়ে তাঁর সম্প্রীতি, মানবতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

তিনি দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিসরে ইতিহাসকে বিকৃত করে একটি বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যেখানে কংগ্রেসকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সুভাষ চন্দ্র বসু কিংবা সরদার বল্লভভাই প্যাটেল-এর বিরোধী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা তাঁর মতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রচার।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংগীত “জনগণমন”-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য হলেও “বন্দেমাতরম” গাওয়া বাধ্যতামূলক নয়, এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া পূর্বে মত দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় স্তরে “বন্দেমাতরম” বাধ্যতামূলক করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বকবি আজীবন সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে এবং মানবতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

অথচ বর্তমান সময়ে যারা নিজেদের জাতীয়তাবাদের প্রধান ধারক বলে দাবি করে, তাদের আদর্শিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি-এর রাজনৈতিক ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, ১৯৪০-এর দশকে বাংলায় অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ-এর সঙ্গে জোট সরকারে তাঁর অংশগ্রহণ ইতিহাসে নথিভুক্ত। ত্রিপুরার সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, খোয়াই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত স্বামী বিবেকানন্দ-এর নামে একটি রাস্তার নাম পরিবর্তন করে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নামে করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন রাস্তার নামকরণ করা যেত, কিন্তু পূর্ববর্তী ঐতিহ্য মুছে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রদেশ কংগ্রেস প্রতিবাদ জানায়। তিনি আরও দাবি করেন, দেশে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় থেকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যের পরিপন্থী। সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ-এর নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেও বাস্তবে প্রধান লড়াই হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি ও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-এর মধ্যে।

তাঁর মতে, ২০১৪ সাল থেকে কংগ্রেসকে দুর্বল করা বিজেপির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সভা শেষে বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন কেবল স্মরণ নয় বরং তাঁর মানবতাবাদ, সম্প্রীতি ও উদার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার অঙ্গীকার নেওয়ার দিন। বাংলার সংস্কৃতি কখনো বিভেদ নয়, বরং সহাবস্থান, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার শিক্ষাই দেয়, এই বার্তাই সভা থেকে পুনরায় তুলে ধরা হয়।

You may also like

Leave a Comment