Home » Blog » পাহাড়ে ভিসি নির্বাচন ঘিরে তৎপরতা শুরু

পাহাড়ে ভিসি নির্বাচন ঘিরে তৎপরতা শুরু

by Planet Tripura
0 comments 34 views

পাহাড়ে গ্রাম সরকার নির্বাচন ঘিরে তৎপরতা, প্রস্তুতি শুরু রাজ্য নির্বাচন কমিশনের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৯ এপ্রিল : ত্রিপুরার পাহাড়ি জনপদে বহু প্রতীক্ষিত ভিলেজ কমিটি (ভিসি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবশেষে প্রশাসনিক তৎপরতা পরিলক্ষিত হয় শনিবার। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর পথে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

একই সঙ্গে এই নির্বাচন ঘিরে রাজ্যের পাহাড়ি রাজনীতিতে জমে ওঠা নানা বিতর্ক, আন্দোলন ও ক্ষমতার সমীকরণ আবারও সামনে চলে এসেছে। ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) এলাকার গ্রামীণ প্রশাসনের মূল ভিত্তি হল ভিলেজ কমিটি। এই নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১৯৯৬ সালের বিধি অনুসারে প্রতিটি রিটার্নিং অফিসার তথা সংশ্লিষ্ট বিডিওদের পর্যাপ্ত সংখ্যক ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগী ১১ মে ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে।

১৫ মে পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি গ্রহণ, ১৬ মে আপত্তি নিষ্পত্তি এবং ১৮ মে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্র তালিকা প্রকাশ পাবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অফিস ও ভিলেজ কমিটি কার্যালয়ে তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষও মতামত জানাতে পারেন। রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলে ভিলেজ কমিটি নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে না হওয়ায় স্থানীয় স্তরে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল।

বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন পিছিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে শাসক ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, পাহাড়ি অঞ্চলে সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকায় তারা নির্বাচন এড়িয়ে যেতে চেয়েছে। এর ফলে স্থানীয় উন্নয়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মত অনেকের। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে সরব ছিল এডিসির শাসক তিপরা মথা। দলটি ভিসি নির্বাচন দ্রুত করার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তোলে।

তাদের অভিযোগ ছিল, গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে পাহাড়ি জনগণকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিষয়টি আদালতের দ্বারস্থ হয়। উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপের পরই নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয় প্রশাসন।আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, স্থানীয় স্বশাসন ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে নির্বাচন অপরিহার্য। আসন্ন ভিসি নির্বাচন শুধু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এটি পাহাড়ি রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি বড় মঞ্চ।

শাসক দল চাইবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে বিরোধীরা এটিকে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছে আঞ্চলিক শক্তিগুলি, বিশেষ করে তিপরা মথা, নিজেদের প্রভাব আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন পাহাড়ি এলাকায় রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। বর্তমান প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক গতিবিধি দেখে রাজনৈতিক মহলে জোরালো জল্পনা আগামী এক মাসের মধ্যেই ভিলেজ কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

যদি তা হয়, তাহলে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নতুন করে সক্রিয় হবে। ভিলেজ কমিটি নির্বাচন শুধু একটি স্থানীয় নির্বাচন নয়, এর গুরুত্ব বহুমাত্রিক, স্থানীয় স্বশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, উন্নয়নমূলক কাজের গতি বৃদ্ধি, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, পাহাড়ি অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা ইত্যাদি।

সব মিলিয়ে, এই নির্বাচন ত্রিপুরার পাহাড়ি জনজীবনে গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হলেও রাজনৈতিক উত্তাপ যে ক্রমশ বাড়বে, তা স্পষ্ট। বহুদিনের অপেক্ষার পর এই নির্বাচন পাহাড়ি জনপদের মানুষের কাছে শুধু ভোট নয়, এটি তাদের অধিকার, প্রতিনিধিত্ব এবং ভবিষ্যতের প্রশ্ন।

এখন দেখার, এই নির্বাচনের মাধ্যমে পাহাড়ে সত্যিই কি গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রত্যাবর্তন ঘটে, নাকি নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের সূচনা হয়।

You may also like

Leave a Comment