“অন্যরা উৎসব করে, আমরা উপোস করি, ১০ মাসের বেতন বঞ্চনার প্রতিবাদে শিক্ষা ভবন অভিযানে ত্রিপুরার মিড ডে মিল কর্মীরা
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ৩০ এপ্রিল : রাজ্যের মিড ডে মিল কর্মীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও আর্থিক সংকটের অবসান ঘটাতে ৯ দফা দাবি নিয়ে রাজপথে নামল, ত্রিপুরা রাজ্য মিড ডে মিল কুক কাম হেল্পার ওয়েলফেয়ার কমিটি। বৃহস্পতিবার রাজধানী আগরতলার রবীন্দ্র ভবনের সামনে থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। কয়েক হাজার কর্মী মিছিলে অংশ নিয়ে তাদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকারের দাবিতে সরব হন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে শেষ পর্যন্ত শিক্ষা ভবনের সামনে গিয়ে পৌঁছায় এবং সেখানে এক বিশাল জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ চলাকালীন সংগঠনের এক নারী নেত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, তাঁরা বছরে ১২ মাস হাড়ভাঙা খাটুনি খাটলেও মাত্র ১০ মাসের বেতন পান। গত দু-মাসের বকেয়া বেতন এখনও তারা পাননি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে জিনিসপত্রের যে চড়া দাম, তাতে মাত্র আড়াই হাজার টাকা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব। অন্যান্য সরকারি কর্মীরা যখন মাস শেষে বেতন পেয়ে আনন্দ করেন, তখন মিড ডে মিল কর্মীরা তাদের পরিবার নিয়ে অর্ধাহার, অনাহারে দিনাতিপাত করছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা তাদের মাসিক বেতন ১৮ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন।আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান নেতা তার বক্তব্যে সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসেও আমরা শিক্ষা দপ্তরের ডিরেক্টরের কাছে ডেপুটেশন দিয়েছিলাম।
তখন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে ১২ মাসের বেতন এবং বর্ধিত টাকা খুব শীঘ্রই দেওয়া হবে। কিন্তু আজ কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন নেই। তিনি আরও বলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীরা বছরে ১৩ মাসের বেতন পান, অথচ মিড ডে মিল কর্মীরা ১২ মাস ডিউটি করেও পান মাত্র ১০ মাসের টাকা। কোন সংবিধানে বা কোন আর্টিকেলে এই বৈষম্যের কথা লেখা আছে, সেই প্রশ্নও তিনি তোলেন। উল্লেখ্য, রাজ্যে প্রায় ১১ হাজার ১৬৬ জন মিড ডে মিল কর্মী রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের।
সংগঠনের পক্ষ থেকে যে ৯টি দাবি পেশ করা হয়েছে, তার মধ্যে প্রধান হলো, মাসিক বেতন ১৮ হাজার টাকা করা, ১২ মাসের সম্পূর্ণ বেতন দেওয়া, বার্ষিক বোনাস প্রদান করা, কর্মীদের নিয়মিত করা, ছাঁটাই বন্ধ করা, অবসরকালীন ৫ লক্ষ টাকা প্রদান এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড ও পেনশনের সুবিধা চালু করা। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার যদি দ্রুত তাদের এই দাবিগুলো পূরণ না করে, তবে আগামী দিনে তারা আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
