আগরতলায় মহিলা সংরক্ষণ বিল ইস্যুতে বিক্ষোভ, অবিলম্বে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি মহিলা কংগ্রেসের
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ১৮ এপ্রিল: মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যবহারের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হলো প্রদেশ কংগ্রেস, মহিলা কংগ্রেস ও কংগ্রেসের ওবিসি শাখা। শনিবার আগরতলার কংগ্রেস ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি তন্ময় রায়।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী কেন্দ্রের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১২ বছরে প্রতারণা ও ভ্রান্ত তথ্য প্রচার, বারবার প্রমাণিত হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সংসদের বিশেষ অধিবেশনেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তাঁর কথায়, নারী সংরক্ষণ বিলকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে নির্বাচনে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে শাসক দল। বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সংসদের আসন বৃদ্ধি ও ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াকেও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
নির্বাচন কমিশনের মতো ডিলিমিটেশন কমিশনকেও দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত ভিত্তিতে আসন বিন্যাসের আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আসাম ও জম্মু-কাশ্মীরে এর উদাহরণ ইতিমধ্যেই দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রবীর চক্রবর্তী সতর্ক করে বলেন, উত্তর ভারতে অস্বাভাবিক আসন বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতে আসন কমে যাওয়া বা সীমিত বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং বিভাজনের প্রবণতা বাড়াতে পারে।
সভায় প্রদেশ ওবিসি কংগ্রেসের চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন দেবনাথ এবং মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী সর্বাণী ঘোষও বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বর্তমান সংসদীয় আসন কাঠামোর ভিত্তিতে এসসি, এসটি ও ওবিসি (মহিলা সহ) সংরক্ষণ বজায় রেখে অবিলম্বে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানান। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সভানেত্রী পৃথা দেব এবং তপশিলি জাতি কংগ্রেসের চেয়ারম্যান নিরঞ্জন দাসসহ অন্যান্যরা ।
