Home » Blog » এইচপিভি টিকাকরণ অভিযান : বাড়ছে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার

এইচপিভি টিকাকরণ অভিযান : বাড়ছে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার

by Planet Tripura
0 comments 14 views

জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে ৩ মাসের এইচপিভি টিকাকরণ অভিযান শুরু

দেশে মহিলাদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার বা জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রকোপ। এই মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় স্তরে এইচপিভি (HPV) টিকাকরণ অভিযান শুরু করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আজমের-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই জাতীয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

একই দিনে ত্রিপুরায় রাজ্যভিত্তিক এইচপিভি টিকাকরণ অভিযানের সূচনা হয় আই জি এম হাসপাতাল-এ। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান টানা তিন মাস চলবে। এই অভিযানে ১৪ বছর পূর্ণ করেছে কিন্তু ১৫ বছর পূর্ণ হয়নি—এমন কিশোরীরাই বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা পাওয়ার জন্য যোগ্য। রাজ্যে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ জন কিশোরীকে এই টিকা প্রদান করা হবে।

রাজ্যের সব রুটিন ইমিউনাইজেশন সেশনে টিকা প্রদান করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ এন্ড জি বি হাসপাতাল

আই জি এম হাসপাতাল

ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ

প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র

সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র

মহকুমা ও জেলা হাসপাতাল

ডিজিটাল নজরদারি: U-WIN প্ল্যাটফর্ম

ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের উদ্যোগে চালু হওয়া U-WIN (Universal Immunization WIN) প্ল্যাটফর্মে এইচপিভি টিকাকরণের সমস্ত তথ্য অনলাইনে নথিভুক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণ। সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর বহু মহিলা নতুন করে সার্ভিক্যাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।

চিকিৎসক মহলের মতে, টিকাকরণের পাশাপাশি নিয়মিত স্ক্রিনিং ও সচেতনতা বৃদ্ধিও সমানভাবে জরুরি। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশে সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজিব ভট্টাচার্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ দেবশ্রী দেববর্মা, পরিবার পরিকল্পনা ও রোগ প্রতিরোধক অধিকর্তা ডাঃ অঞ্জন দাস, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ত্রিপুরার যুগ্ম মিশন অধিকর্তা ডাঃ নূপুর দেববর্মা, রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব ডাঃ শৌভিক দেববর্মা এবং পশ্চিম ত্রিপুরার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ শংকর চক্রবর্তী প্রমুখ।

You may also like

Leave a Comment